২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো খাতে ব্যয় রেকর্ড ৮৬ বিলিয়ন বা ৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এআই প্রযুক্তি তৈরি, প্রশিক্ষণ, চালানো ও বড় পরিসরে ব্যবহারের জন্য হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং নেটওয়ার্কের সমন্বয় তৈরি হয় এআই অবকাঠামো। ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো এআই প্লাটফর্ম সরবরাহকারীরা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ট্রেনিং ও ইনফারেন্স সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করছে। ফলে এআই অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগে বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। আইডিসি ওয়ার্ল্ডওয়াইড কোয়ার্টারলি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের রেকর্ড পারফরম্যান্স এআই খাতের প্রাথমিক পর্যায় থেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রসারের দিকে মোড় নেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালে এ খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩৪ বিলিয়ন বা ৩৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা ২০২৯ সাল নাগাদ ৯০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত খাতটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশের ওপরে থাকবে এবং পরবর্তী বছরগুলোয় তা ২০ শতাংশের মাঝামাঝি অবস্থানে নেমে আসতে পারে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিটের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান সিটিগ্রুপের পূর্বাভাস বলছে, প্রযুক্তি জায়ান্টদের এআই-সংক্রান্ত অবকাঠামো খাতে ব্যয় ২০২৯ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন বা ২৮ লাখ কোটি ডলার ছাড়াবে। এর আগে তা ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন বা ২৩ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এআই প্রযুক্তির কাজ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও ভারী হচ্ছে। এসব কাজ ঠিকভাবে চালাতে এবং সামাল দিতে প্রতিষ্ঠান ও ক্লাউড সেবাদাতা কোম্পানিগুলো বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির কম্পিউটার ব্যবস্থা (উচ্চক্ষমতার প্রসেসিং) সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান হয়ে উঠেছে।
গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এআই অবকাঠামোর বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মূলত এআই প্লাটফর্ম সরবরাহকারী ও বড় ক্লাউড কোম্পানিগুলোর (হাইপারস্কেলার) বিপুল বিনিয়োগের কারণে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) চালাতে যে বিশাল ডেটা ও শক্তিশালী প্রসেসিং দরকার, তা সামাল দিতে হার্ডওয়্যার খাত দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে।
আইডিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের উল্লম্ফনে ভৌগোলিক অবস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। এ সময় বৈশ্বিক বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে দুটি অঞ্চল। আগের মতো গত বছরও এআই অবকাঠামোর সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আইডিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, বছরজুড়ে বৈশ্বিক ব্যয়ের প্রায় ৭৬ শতাংশই হয়েছে এ অঞ্চলে। হাইপারস্কেলার এবং শীর্ষ এআই প্লাটফর্মগুলো বড় আকারের ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করায় এ প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে।
অন্যদিকে এআই খাতে দ্বিতীয় দ্রুতবর্ধনশীল অঞ্চল চীন। দেশটিতে এআই-সংক্রান্ত ব্যয় ২০২৫ সালের প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৯ সাল নাগাদ প্রায় ১৪ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত অভ্যন্তরীণ এআই প্লাটফর্ম এবং রাষ্ট্রীয় এআই প্রকল্পগুলোয় ধারাবাহিক বিনিয়োগ এ প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড এন্টারপ্রাইজ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ট্র্যাকারের গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট লিদিস ফার্নান্দেজ বলেন, ‘এআই অবকাঠামোর বাজারটি প্রাথমিক পর্যায় কাটিয়ে এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ চক্রে প্রবেশ করেছে। খাতটিতে ওপেনএআই ও গুগলের মতো শীর্ষস্থানীয় এআই প্লাটফর্ম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অংকের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিগুলো অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিশেষ করে দ্রুততর কম্পিউটিং ব্যবস্থার পেছনে বহু বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।’